(একটি ভৌতিক বাংলা গল্প)
রাত তখন ঠিক ৩টা ১৭ মিনিট। পুরো বাড়ি নিঃশব্দ। গাছের পাতাও নড়ছে না। হঠাৎ এক ফাঁকা ঘরে ভেসে আসে এক নারীর আলতো হাসি—মৃদু, কিন্তু কানে যন্ত্রণা ধরিয়ে দেয়। কেউ যেন খুব কাছেই দাঁড়িয়ে আছে। কেউ, যাকে কেউ দেখতে পায় না।
এই গল্পটা আমার এক বান্ধবী শারমিনের কাছ থেকে শোনা, যিনি গতবছর ঢাকার বাইরে মির্জাপুরে একটা চাকরি পেয়েছিলেন। তিনি একটা পুরনো অথচ সুন্দর গেস্ট হাউসে থাকতেন—ঘরটা ছিল শান্ত, একটু একাকী, আর বেশ নির্জন পরিবেশে।
প্রথম সপ্তাহে কোনো সমস্যা হয়নি। বরং এত শান্তির জায়গা পেয়ে সে খুশিই হয়েছিল।
কিন্তু একদিন রাতে, ঘুম ভাঙে একটা শব্দে।
হাসি।
এক নারীর হাসির শব্দ। কেমন যেন ঘরজোড়া নরম কণ্ঠ—"হহহহহহ..."
প্রথমে ভেবেছিল, পাশের রুমে থাকা কেউ হয়তো সিনেমা দেখছে। কিন্তু আশেপাশে তো কেউ ছিল না।
📜 প্রথম অদ্ভুততা
শারমিন সেই রাতেই দেখলো, ঘুমের মধ্যে সে বারবার একই স্বপ্ন দেখছে। একটা নীল শাড়ি পরা নারী, যার মুখ দেখা যায় না, সে হাসছে আর বলছে,
“আমার ঘরে কেউ ঘুমোতে পারে না…”
পরদিন সকালে বাড়ির দারোয়ানকে জিজ্ঞেস করল, “এই ঘরে আগে কেউ থাকতেন?”
বৃদ্ধ লোকটি চুপ করে রইলো কিছুক্ষণ, তারপর শুধু বললো:
“রাতের দিকে জানালা বন্ধ রাখবেন। বিশেষ করে ৩টার পরে।”
শারমিন আর ঘাঁটালো না। ভেবেছিল গ্রাম্য কুসংস্কার। কিন্তু দ্বিতীয় রাতেই, আবার ৩টার দিকে হাসির শব্দ...
এইবার ঘরের মধ্যে ঠান্ডা একটা বাতাস, এবং আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা... একটা ছায়া।
🧳 আগের ভাড়াটে
দারোয়ানের স্ত্রী একদিন বলে ফেললেন:
“এই ঘরে আগেও একজন মেয়েমানুষ ছিল। শান্তশিষ্ট, একা থাকত। এক রাতে হাসির শব্দ শুনে আশেপাশের লোকেরা দরজা ভেঙে ঢোকে। দেখে মেয়েটা গলায় ওড়না পেঁচিয়ে আত্মহত্যা করেছে। কিন্তু তার মুখে তখনো... হাসি লেগে ছিল।”
ঘরের আয়না নাকি আগেও এমন ছায়া দেখিয়েছে।
🕯️ তদন্ত
শারমিন একদিন গেস্ট হাউসের পুরনো খাতা ঘেঁটে খুঁজে পেল সেই মেয়ের নাম—রুপা সুলতানা। ঘরে তার মৃত্যুর খবর স্থানীয় পত্রিকাতেও এসেছিল।
ঘটনা অবাক করার মতো—কেউ আত্মহত্যা করলেও তার ঘরে অদ্ভুত বিষয় ছিল—ঘরজুড়ে জোরে জোরে হাসির শব্দ বাজছিল, কেউ দরজা খুলছিল না, আর সেই মৃতদেহের মুখে একটা অস্বাভাবিক হাসি ছিল জমে থাকা।
😨 সর্বশেষ রাত
সেই রাতে শারমিন ঠিক করে, সে চলে যাবে। সে ব্যাগ গোছাতে শুরু করে। ঠিক তখনই দরজার বাইরে থেকে ভেসে আসে হাসির শব্দ।
"হহহহহ... হহহহহহহ..."
শব্দটা যেন ঘরের ভেতর ঢুকে আসে। শারমিন দরজায় ছিটকিনি লাগায়, কিন্তু জানালার কাঁচে ছায়া দেখা যায়। আয়নার দিকে তাকিয়ে সে নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পায় না—দেখে একটা নীল শাড়ি পরা নারী, যার চোখ নেই—শুধু ফাঁকা কালো গহ্বর আর বিশ্রী এক হাসি।
ঘরের বাতাস ভারী হয়ে আসে। ঘড়ি তখন আবার ৩টা ১৭।
শারমিন জ্ঞান হারিয়ে ফেলে।
🌄 সকাল
পরদিন সকালে লোকজন এসে দেখে সে মেঝেতে অচেতন। কিন্তু আশ্চর্য—ঘরের আয়না ভাঙা, বাতাস ভারী, এবং ঘরের দেয়ালে লাল রঙে লেখা এক লাইন—
“তুমি হাসতে পারো না, তাই আমি কাঁদি না”
🔚 শেষ কথা
শারমিন সেই রাতের পর আর কখনো একা ঘরে থাকতে পারেনি। সে এখন শহরের ব্যস্ত এলাকায় থাকে, কিন্তু মাঝেমধ্যে ঘুম ভেঙে ওঠে মাঝরাতে—ঘড়ির কাঁটা তখনও...
৩টা ১৭।
আর জানালার কাচে একটা ছায়া…
একটা হাসির শব্দ, ধীরে ধীরে স্পষ্ট হয়ে ওঠে...
❗আপনার জন্য টিপ:
যদি কোনো ঘরে অকারণে রাতে হাসির শব্দ শুনতে পান, আয়নাতে ছায়া দেখেন, বা ঘড়ি বারবার একই সময় দেখায়…
সেই ঘর ছেড়ে দিন। এখনই।
শেষ।

0 Comments