Ticker

10/recent/ticker-posts

Ad Code

🕯️ বাড়ির নিচে কবর




(ভয়ংকর ভৌতিক বাংলা গল্প)

সবচেয়ে ভয়ের গল্পগুলো হয়তো আমাদের খুব চেনা জায়গা থেকেই জন্ম নেয়। এমন একটা বাসা, যেখানে প্রতিটি দরজা-জানালা পরিচিত, যেখানে প্রতিদিনের চেনা ঘ্রাণ ভেসে বেড়ায় — হঠাৎ যদি জানা যায়, সেই বাড়ির নিচেই কোনো কবর লুকিয়ে আছে?

আমার নাম রিমন। বছর তিনেক আগে ঢাকার অদূরে একটা পুরনো দোতলা বাড়ি ভাড়া নেই। বাড়িটা সস্তায় পাওয়া গিয়েছিল। মালিক বলেছিলেন, “কয়েক বছর কেউ থাকেনি... তবে আপনারা থাকলে জমে উঠবে।” আমি, আমার স্ত্রী অনু, আর আমাদের ছোট মেয়ে মিমি — তিনজনের ছোট্ট পরিবার।

প্রথম এক-দুই সপ্তাহ একদম শান্তিপূর্ণ কেটেছে। কিন্তু হঠাৎ করেই অনু বললো, “রাতের বেলা ঘরের মেঝে ঠান্ডা ঠান্ডা লাগে না তোমার?”
আমি হেসে উড়িয়ে দিয়েছিলাম।

কিন্তু এরপর থেকেই শুরু হয় অদ্ভুত ঘটনা।


প্রথম অস্বাভাবিকতা

একদিন রাতে, আনুমানিক ২টা নাগাদ হঠাৎ ঘুম ভেঙে গেল। শুনি, মিমির ঘর থেকে গুনগুন করার মতো শব্দ আসছে। গেলাম দরজার সামনে। শব্দ থেমে গেল। দরজা খুলে দেখি, মিমি গভীর ঘুমে।

পরদিন সকালে মিমিকে জিজ্ঞেস করলাম, “তুমি রাতে গান গাইছিলে?”
সে বললো, “আমি না। কিন্তু ঘরের নিচ থেকে একটা দাদি কথা বলেন। উনি গল্প বলেন রাতে।”

আমার সারা শরীর কেঁপে উঠল।


বাড়ির নিচে…

আমি বাড়ির মালিককে ফোন দিয়ে জিজ্ঞেস করলাম, “এই বাড়ির নিচে কি কিছু আছে?”
তিনি বললেন, “নিচ মানে? বেসমেন্ট বলতে গেলে শুধু পুরনো স্টোররুম আছে। খুব বেশি কেউ যায় না।”

কৌতূহলবশত আমি এক বিকেলে একা নেমে যাই সেই স্টোররুমে। নিচের ঘরের দরজা কেমন ভারী আর পুরনো। ভেতরে ঢুকেই কেমন একটা স্যাঁতসেঁতে, মাটি ভেজা গন্ধ।

ঘরের এক কোণে খালি জায়গা দেখে আমি একটু কুড়াল দিয়ে মাটি খুঁড়তে শুরু করি।

পাঁচ মিনিটের মাথায় ধাক্কা খেলাম কাঠের কিছুর উপর।

আরো খুঁড়ে দেখি — একটা কাঠের বাক্স, ছোট্ট কফিনের মতো দেখতে। খুলতেই দেখি — একজোড়া পুরনো শিশুর জামা-কাপড়, সঙ্গে একটা ছবি। ছবিতে ধরা এক বৃদ্ধা — ঠোঁটে অদ্ভুত হাসি, আর পেছনে লেখা:
“আমার মায়া এই ঘর ছাড়বে না।”


অশরীরী উপস্থিতি

সে রাতেই আমাদের ঘরে শুরু হয় বিভীষিকা।

অনু বলল, তার গায়ে রাতে কেউ হাত বুলিয়ে দিচ্ছে। মিমি চিৎকার করে উঠে বলল, “দাদির মুখটা বড় হয়ে যাচ্ছে!”

একদিন রাতে হঠাৎ লোডশেডিং। আমি টর্চ হাতে ঘরে দাঁড়িয়ে আছি, দেখি রান্নাঘর থেকে শব্দ আসছে — থালা পড়ে ভেঙে যাচ্ছে। ছুটে গিয়ে দেখি, কিছুই নেই, সবকিছু নিথর। কিন্তু মেঝেতে লেখা একটা বাক্য —
“তুমি কবর খুঁড়েছো, এবার আমি উঠেছি।”


অজানা অতীত

পরদিন স্থানীয় এক বৃদ্ধের সঙ্গে কথা বলতে গেলাম। তিনি বললেন, “এই বাড়িটার জায়গা আগে এক বুড়ি রাখাল বুড়ির ছিল। তার কোনো সন্তান ছিল না। বলতো, ‘মরে গেলে আমায় এই ঘরের নিচে কবর দিও।’ কারো কথা শোনেনি। মারা যাওয়ার পর তার কঙ্কাল নাকি কেউ চুরি করে এই বাড়ির নিচে পুঁতে রাখে… বুড়ি তার জায়গা ছাড়েনি।”


আতঙ্কের চূড়ান্ত রাত

শেষ রাতে, আমি ঠিক করলাম — ছবিটা আর কাপড়গুলো আমি পুড়িয়ে ফেলবো।

আগুন ধরাতেই হঠাৎ পুরো বাড়ির আলো নিভে গেল। দরজা বন্ধ হয়ে গেল আপনাতেই। জানালার বাইরে কালো ছায়া দেখা গেল।

একটা গলা — বুড়ি কণ্ঠে — যেন কেঁদে কেঁদে বলছে:
“তুমি আমার জায়গা নিলে কেন? আমার ঘর, আমার ঘর!”

আমার চোখের সামনে মেঝে ফেটে ফেটে উঠছে। যেন মাটির নিচ থেকে কেউ উঠতে চাইছে।

আমি আর দেরি করিনি। স্ত্রী আর মেয়েকে নিয়ে আমরা সেই রাতেই বাড়ি ছেড়ে চলে আসি।


আজ

আজ তিন বছর পর এই গল্প লিখছি। আমরা ঢাকায় অন্যত্র আছি। ভালোই আছি।

কিন্তু মাঝেমধ্যে রাতে ঘুম ভেঙে দেখি — মিমি ঘুমের মধ্যে গুনগুন করে বলছে:
“দাদি এখনো নিচে থাকে...”


শেষ কথা

একটা পুরনো ঘর হয়তো শুধু কাঠ-পাথরের তৈরি নয়। সে বহন করে মানুষের আবেগ, মৃত্যুর ইতিহাস, আর কখনো কখনো... কবরও।

তাই কখনো যদি সস্তায় পাওয়া একটা পুরনো বাড়ি নিতে চান — ভালো করে খুঁজে দেখবেন, তার নিচে কিছু লুকানো আছে কি না।


শেষ।


Post a Comment

0 Comments