Ticker

10/recent/ticker-posts

Ad Code

💻 মৃত মানুষের ফেসবুক ভৌতিক গল্প


ভৌতিক গল্প | পূর্ণাঙ্গ পাঠ্য


মেঘলা সন্ধ্যা। উত্তরা ৯ নম্বর সেক্টরের এক আধা-পরিত্যক্ত ফ্ল্যাটের ভিতর বসে ল্যাপটপে স্ক্রল করছিল তানভীর। ২৭ বছর বয়সী ফ্রিল্যান্সার, সারাদিন ঘরেই কাজ করে। বাইরের জগতের সঙ্গে যোগাযোগ বলতে এই ফেসবুক আর কয়েকটা ক্লায়েন্ট মেইল।

হঠাৎ তার চোখে পড়ে একটা নোটিফিকেশন—"নিউ মেমোরি উইথ Tashfia Rahman"
তানভীরের বুক কেঁপে ওঠে।
তাশফিয়া… তিন বছর আগে যে আত্মহত্যা করেছিল!

তানভীর আর তাশফিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সময় প্রেম করত। হুট করে ব্রেকআপ, তারপর একদিন খবর এল—তাশফিয়া ওভারডোজে মারা গেছে। সবাই বলেছিল আত্মহত্যা। তানভীর স্বপ্নেও ভাবেনি, এই মেয়েটি নিজেকে শেষ করে দেবে।

কিন্তু আজ তিন বছর পর, হঠাৎ ফেসবুক মেমোরি?
তারচেয়েও ভয়ানক ব্যাপার ছিল—তাশফিয়ার প্রোফাইল আবার অ্যাকটিভ
প্রোফাইল পিকচারে হালকা আঁধারে তোলা নতুন একটা ছবি, যেখানে একটা অদ্ভুত হাসি ঝুলে আছে মুখে।

তানভীর ভাবল, কেউ হয়তো হ্যাক করেছে।
কিন্তু ইনবক্সে সে যা দেখে, শরীর ঠাণ্ডা হয়ে আসে।

"তুমি কি আমার কবরের পাশে আসবে?"
সাথে টাইমস্ট্যাম্প: আজ, সন্ধ্যা ৬:৪৪ PM
লাস্ট সিন: Active now

তানভীর থরথর করে উঠল।

"কে এই প্রোফাইল চালাচ্ছে? কে এই নাটক করছে?"

সে বারবার মেসেজ পাঠাতে থাকে:
— "তুমি কে?"
— "কেন আমার সঙ্গে এইসব করছো?"
— "এটা কেমন রসিকতা?"

কিন্তু উত্তর আসে না।

রাত ১:০৩।
হঠাৎ সে শুনতে পায়, জানালার পাশে কার যেন কান্নার আওয়াজ।
বুকের ভিতর কাঁপতে কাঁপতে সে পর্দা সরিয়ে দেখে—বাইরে রাস্তার আলোয় একটা ছায়া দাঁড়িয়ে আছে।

হাত তুলে ইশারা করছে।
তানভীর মনে মনে ভাবে—"না, এটা হতে পারে না।"

ফেসবুকে আবার মেসেজ আসে।
"তোমার মাফ চাইতে ইচ্ছে করে না?"

সে ভয় পেয়ে যায়। ফোন বন্ধ করে দেয়। ল্যাপটপ বন্ধ করে শুয়ে পড়ে। ঘুম আসে না। কিন্তু একটা শব্দ বারবার কানে আসে…
"তুমি আমায় ঠকিয়েছিলে…"

পরদিন সকালে ফেসবুক লগইন করে দেখে, সে তাশফিয়ার প্রোফাইল রিপোর্ট করেছে রাতে। অথচ তার কোনো স্মৃতি নেই। তাছাড়া, নিজের অ্যাকাউন্ট থেকেও তার প্রোফাইলের একটা পোস্ট হয়েছে—
"শেষ দেখা হয়েছিল যেদিন, সেদিন যদি তুমি শুনতে…"

পোস্টের সাথে একটি ছবি—তানভীর নিজে একটি কবরের পাশে বসে, তাকিয়ে আছে নিচের দিকে।
কিন্তু এই ছবি সে কখনো তো তোলে নি!

সে ডিলিট করতে গিয়ে দেখে—ডিলিট অপশনই নেই।

তার বন্ধুরা ইনবক্সে জানতে শুরু করে—"ভাই, তুই ঠিক আছিস তো? এমন পিক দিস কেন?"

তানভীর কাউকে কিছু বোঝাতে পারে না।

রাত বাড়ে।

ঠিক রাত ৩:১৫
তার ঘরের ওয়াইফাই বন্ধ হয়ে যায়। সব ডিভাইস রিস্টার্ট হয়।
অবশেষে ল্যাপটপ চালু হলে, তাশফিয়ার মেসেঞ্জার খুলে গিয়ে নিজে নিজেই টাইপ করতে থাকে—
"তোমার সময় শেষ হয়ে এসেছে, তানভীর।"

তানভীর ছিটকে উঠে ল্যাপটপ বন্ধ করে। জানালায় আবার সেই ছায়া। এবার দরজায় টোকা।

ঠক ঠক ঠক।
"তুমি মাফ চাইবে না?"

সে দরজা খুলে দেখে, কেউ নেই। নিচে পড়ে আছে একটা চিরকুট।

"আজ রাতে তুমি আমার জায়গা নেবে। তুমি আমার মতো একা থাকবে, চিরকাল।"

তারপর যা ঘটল, তা শুধু পুলিশ জানে।
তারা তানভীরকে ফ্লোরে পড়ে থাকতে দেখে। মুখে ফেনা, চোখ খোলা, হাত ঠান্ডা। ল্যাপটপে স্ক্রিনে একটাই উইন্ডো খোলা ছিল—তাশফিয়ার প্রোফাইল।

তাতে লেখা একটাই স্ট্যাটাস:

"তানভীর আজ আমার সঙ্গে যোগ দিলো। আর কেউ বিশ্বাসঘাতকতা করবে না…"

আজও নাকি মাঝরাতে, কেউ কেউ বলে, তানভীরের ঘরের ভেতর থেকে এক অদ্ভুত টাইপিং এর আওয়াজ আসে।

আর যদি আপনি তাশফিয়ার প্রোফাইল খুঁজে পান…

তবে রিপ্লাই করবেন না।

কারণ…
মৃত মানুষের ফেসবুকেও কান্না শোনা যায়।


শেষ।


Post a Comment

0 Comments