🛗 লিফট নম্বর ৭
মিরপুর ১২ নম্বরে সদ্য তৈরি হওয়া একটি বিল্ডিং—“গোল্ডেন হাইটস।”
চকচকে মার্বেল ফ্লোর, গ্লাস-ওয়াল, সিসিটিভি, ৮টা লিফট। সবকিছুই আধুনিক।
তবে একটা অদ্ভুত বিষয়—লিফট নম্বর ৭ কখনোই ব্যবহার করা হয় না।
কারণ?
বাসিন্দারা বলে, রাত ১টা থেকে ৩টার মধ্যে কেউ যদি ভুল করে ওই লিফটে ওঠে, আর ফিরে না আসে—তাহলে সে সময়টাই ওর চিরন্তন ঠিকানা হয়ে যায়।
এই গল্প শুরু হয় রাত ১টা ১৬ মিনিটে।
🔹 পরিচিতি
তানিয়া, ২৬ বছর বয়সী একটি সফটওয়্যার কোম্পানির কর্মী, সদ্য এই ফ্ল্যাটে উঠেছেন।
সে এসব ভূতের গল্পে বিশ্বাস করে না। তার মতে, “এ সব গরীব গার্ডদের বানানো গুজব, যেন লোক কম ওঠে লিফটে!”
কিন্তু হঠাৎ এক রাতে অফিস থেকে ফেরার সময়, তার বাসার লিফট (নম্বর ৪) খারাপ হয়ে যায়।
গার্ড বলে—“ম্যাডাম, সিঁড়ি ব্যবহার করেন। ওই সাত নম্বরে গেলে বিপদ।”
তানিয়া হেসে বলে—“বুঝেছি! এবার ভূত আসবে আর বলবে ‘ওগো বউদি, নামো নামো’!”
এবং সেই হাসি নিয়েই লিফট নম্বর ৭-এ পা রাখে সে।
🔹 লিফটের ভেতর
লিফটের দরজা বন্ধ হতেই, বাতি টিমটিম করে জ্বলে ওঠে।
তাপমাত্রা হঠাৎ কমে যায়।
ডিসপ্লেতে লেখা—“Going Down”
তানিয়া অবাক হয়—তার ফ্ল্যাট তো ৮ম তলায়, উপরে যাওয়ার কথা।
লিফট নিচে নামতে থাকে…
৮
৭
৬
৫
৪
৩
২
১
G
LG
-1
-2
-3
তারপর… লেখা আসে না কিছুই। কেবল এক চাপা অন্ধকার।
লিফট থেমে যায়।
🔹 অদ্ভুত তলা
দরজা খুলে গেল।
তানিয়া ভাবে—“আচ্ছা, এটা তো পার্কিং ফ্লোরও নয়।”
সামনে একটা অদ্ভুত করিডোর—আধা আলো, দেয়ালে সাদাকালো ছবি, যেখানে মানুষদের মুখ ঘোলা।
মেঝেতে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ, ঘড়ি নেই, শব্দ নেই, কেবল নিজের নিঃশ্বাস।
তানিয়া সামনে এগোয়।
হঠাৎ করিডোরের শেষে এক মেয়ে দাঁড়িয়ে—পেছন ঘুরে।
তানিয়া ভয় পেয়ে বলে—“হ্যালো? আপনি কে? আমি লিফটে ভুল করে নেমে গেছি…”
মেয়েটি ধীরে ধীরে ঘুরে দাঁড়ায়—চোখ নেই, মুখ ফাটা।
সে বলে—"তুমিও এলেই, আমিও ফিরে যাবো…"
তারপর...
আঁধার ঘরে শুধু চিৎকারের শব্দ।
🔹 পরদিন
পরদিন সকালে বিল্ডিং-এর সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়—তানিয়া লিফট ৭-এ ঢুকেছে, কিন্তু বের হয়নি আর।
কোনো দরজা খোলা হয়নি। কোনো বাটন চাপা হয়নি।
লিফটের স্ক্রিন বন্ধ।
সেদিন রাত থেকেই লিফট নম্বর ৭-এর সামনে একটা ছোট নোটিশ টাঙানো হয়:
⚠️ সতর্কবার্তা:
লিফট নম্বর ৭ রাত ১টা থেকে ৩টা পর্যন্ত বন্ধ থাকবে।
আগতদের অনুরোধ করা হলো, জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পরীক্ষা না করতে।
কিন্তু মাঝে মাঝে, গভীর রাতে, দেখা যায় দরজার ফাঁক দিয়ে এক মেয়ে তাকিয়ে হাসছে।
তার মাথা একটু হেলানো, চোখে শূন্য দৃষ্টি...
কেউ কেউ বলে—সে তানিয়া নয়,
সে এখন “লিফট নম্বর ৭-এর অভিভাবক।”

0 Comments